Saturday, September 5, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ

ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) তাদের ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইআরএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ক্রুড তেলের চালান দেশে না পৌঁছানো পর্যন্ত রিফাইনারি চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী ১০ মে’র দিকে নতুন চালান আসতে পারে। এ সময়ের মধ্যে রিফাইনারিতে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে।

এক কর্মকর্তা জানান, “ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ থাকলেও এলপি গ্যাস, পেট্রোল ও বিটুমিন উৎপাদন আংশিকভাবে চলমান রয়েছে। পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।”

তবে বিষয়টি নিয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানে বিঘ্ন ঘটছে। দেশে সর্বশেষ চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, আর নতুন চালান মে মাসের শুরুতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইন এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কয়েকদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই মজুতও ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্রুড প্রসেসিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

সাধারণত ইস্টার্ন রিফাইনারি দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। বাকি চাহিদা মেটাতে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

More