Saturday, September 5, 2026
PrimeBulletin

আইন-আদালত

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল

দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে এবং আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন আর থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ, যেমন ২৫ জন বিচারকের নিয়োগ, বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় ওই সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। এর অধীনে থাকা বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সচিবালয়ের জন্য সৃষ্ট পদগুলো বাতিল হবে। সেখানে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি পূর্বের আইনের আওতায় পরিচালিত হবে।

সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর আইনে পরিণত হবে এবং পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বিরোধীদের আপত্তি ও সমালোচনা

বিল দুটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে আগের মতো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাবও দেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মানলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, সেই পরিস্থিতি আবার ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভিন্নমত দেয়নি, সেখানে এখন কেন তা বাতিল করা হচ্ছে।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না তা বলতে পারে, কিন্তু সংসদকে আইন প্রণয়নে নির্দেশ দিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা আদালত হলেও অতীতে এর স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়েছে। বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনা করে আইন প্রণয়ন করবে।

বিচারক নিয়োগ বিল নিয়েও বিতর্ক

‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ নিয়েও এদিন সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়াই মূল সংকট। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হয়, যা নিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাইয়ের বিধান ছিল এবং এতে অসাংবিধানিক কিছু নেই বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

শক্ত অবস্থানে সরকার

বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তাত্ত্বিকভাবে তিনি স্বচ্ছ নিয়োগ-ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত। অতীতে বিশেষ করে গত ১৭ বছরে দলীয় প্রভাবের অভিযোগে বিচার বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই সরকার নতুন করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানসম্মত নিয়োগ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সরকারের অবস্থান উপস্থাপন করেছিলেন, তবে বর্তমানে সরকারের নীতির আলোকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেন। অন্যদিকে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন (প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ব্যতীত)।

অতীতে বিচারক নিয়োগে আলাদা কোনো আইন না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে বিতর্ক ছিল। এ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করে, যেখানে বিচারক নিয়োগের জন্য পৃথক কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়।

এছাড়া বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, পদায়ন, বদলি ও শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব পালন করত।

যদিও সংসদে বিল দুটি পাস হওয়ায় এসব বিধান আর কার্যকর থাকছে না। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়ে বিলগুলো পাস হয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, আলোচনার সময় একজন বিচারপতির নামের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষণ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

More

শেরপুরে শিশু বিথীকে ধর্ষণ ও হত্যা: কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল

আইন-আদালত

শেরপুরে শিশু বিথীকে ধর্ষণ ও হত্যা: কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল

২০১৩ সালে শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশু বিথী দিওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুঃসম্পর্কের মামা আসামি কান্তি মারাকের মৃত্যুদ...

2026-07-01 14:11

চার দিনে হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি

আইন-আদালত

চার দিনে হাইকোর্টে ২০ হাজারের বেশি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি

আদালতে মামলার জট হ্রাস ও বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে ২০...

2026-06-24 18:34

আরেক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

আইন-আদালত

আরেক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল...

2026-06-24 12:55

গুলশানে রেস্টুরেন্টে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা ৫০ হাজার

আইন-আদালত

গুলশানে রেস্টুরেন্টে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা ৫০ হাজার

বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কফোর্সের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বি...

2026-06-24 12:54